মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে পানির সংকট দিন দিন আরো তীব্র হয়ে উঠছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে পানির সংকট দিন দিন আরো তীব্র হয়ে উঠছে। এতে সামনের দিনগুলোয় এ অঞ্চলের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশ্লেষক ও বিশ্বব্যাংকের বরাত দিয়ে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডট কম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে কাজাখস্তানে শস্য উৎপাদন ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছিল বিশ্বব্যাংক। জানিয়েছিল, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোয় আগামী কয়েক দশকে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। সংস্থাটির প্রেস অফিস সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, ছয় বছর পর এ ভবিষ্যদ্বাণী ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপান্তর হচ্ছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাজাখস্তানের শস্য উৎপাদনে বিশেষ করে গম ও ভুট্টার ফলনে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। দেশটিতে খরার প্রভাব আগেও ছিল, তবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে তা আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত মধ্য এশিয়ার শস্য উৎপাদনে বিশেষ কোনো প্রভাব পড়েনি। এমনকি গত বছর কাজাখস্তান আগের বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি শস্য উৎপাদন করেছে। তবে কাজাখস্তান গ্রেইন ইউনিয়নের হেড অব অ্যানালাইটিক্যাল ডিপার্টমেন্ট ইয়েভগেনি কারাবানভ বলেন, ‘‌এসব পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষকদের খাপ খাওয়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় অষ্টম স্থানে আছে পাকিস্তান। দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি কৃষি নির্ভর করে সিন্ধু নদীর সেচের ওপর, যা হিমবাহ গলে যাওয়া ও বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। উভয় ক্ষেত্রেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখা দিয়েছে।

সংস্থাটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২০ সালে অতিবৃষ্টির কারণে গমে রস্ট রোগ বেড়েছে। আবার অনেক সময় দেশটিতে কাটা-মাড়াইয়ের সময় অতিবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

এফঅ্যান্ডএর ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিস্কের সিনিয়র স্পেশালিস্ট ক্যামিলা বোনিয়া সেদ্রেজ বলেন, ‘এ অঞ্চলে আরো খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহ দেখা দেবে। পাকিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এসব দেশের অধিকাংশ চাষযোগ্য জমি সেচনির্ভর ও পানির উৎস অনেক সময় দেশের বাইরের সীমান্তে।’

বিশ্লেষকরা জানান, এশিয়ার এ দেশগুলো বর্তমানে নানা উপায়ে এ হুমকি মোকাবেলার পথ খুঁজছে। এমনকি সামনের দিনগুলোয় কৃষকদের জিনগত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প পথ থাকবে না।

আরও